হিট স্ট্রোক কি এবং কেন এটি অত্যন্ত মারাত্মক স্বাস্থ্যসমস্যা—এটি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন গ্রীষ্মকালে তীব্র গরমের কারণে হিট স্ট্রোক অনেকের কাছে সাধারণ সমস্যা মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা। যখন শরীর নিজের তাপমাত্রা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায় এবং হিট স্ট্রোক হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী এবং যারা দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করেন, তাদের ঝুঁকি বেশি। তাই গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়, হিট স্ট্রোকে করণীয় এবং এর লক্ষণ সম্পর্কে আগে থেকেই জানা জরুরি। এই লেখায় আমরা জানব, কীভাবে গরমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায় এবং হিট স্ট্রোক হলে কী করা উচিত।
হিট স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণগুলো হলো মাথা ঘোরা, তীব্র মাথাব্যথা, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ভীষণ দুর্বল লাগা এবং এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা একদমই ঠিক নয়, কারণ দ্রুত চিকিৎসা না নিলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখা, প্রচুর পানি পান করা এবং শরীরে লবণের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক পরলে শরীর ঠান্ডা থাকে। রোদে দীর্ঘ সময় না থেকে ছায়াযুক্ত জায়গায় থাকা এবং সহজপাচ্য, হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গরমে শরীরকে সুস্থ রাখে।
তীব্র গরমে ভালো থাকাই আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে, তাকে সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে এসে ফ্যানের বাতাসে রাখা, ঠান্ডা পানির ঝাপটা দেওয়া বা ভেজা কাপড়ে শরীর মুছে দেওয়া খুব কার্যকর উপায়। প্রয়োজনে বরফ ব্যবহার করেও শরীরের তাপমাত্রা কমানো যেতে পারে। তারপর আর দেরি না করে ডাক্তারের সাহায্য নেওয়া উচিত। এই কয়েকটি সহজ পদক্ষেপই যেকোনো সময় একজনের জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।
গরমের সময় সুস্থ থাকতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখা খুব প্রয়োজন—যেমন শরীরে পানির ঘাটতি হতে না দেওয়া, সঠিক পোশাক পরা এবং রোদে কাজ করার সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নেওয়া। নিচে এই তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, যাতে আপনি গরমের দিনে নিজের ও পরিবারের সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন।
কি কি কারণে স্ট্রোক হয়? সম্পর্কে এই পোস্ট থেকে জেনে নিন।

হিট স্ট্রোকে করণীয় কি কি
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন
গরমের সময় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়, যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে এই প্রক্রিয়ায় শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে, যা মাথা ঘোরা, অবসাদ এবং হিট স্ট্রোকের মতো মারাত্মক শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত এবং প্রয়োজনে আরও বেশি পান করতে হবে। এছাড়া তরমুজ, শসা এবং কমলালেবুর মতো জলীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর সহজেই হাইড্রেটেড থাকবে। বিশেষ করে যারা বাইরে বা রোদে শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি।
হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন
গরমের দিনে সুতি কাপড়ের হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা সবচেয়ে আরামদায়ক এবং স্বাস্থ্যকর। সুতি কাপড় ঘাম শোষণ করে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি হালকা রঙের পোশাক সূর্যের তাপ প্রতিফলিত করে, যা শরীরকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করে। টাইট বা সিনথেটিক কাপড় এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো ঘাম জমিয়ে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
ঠান্ডা পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন
হিট স্ট্রোক কি এবং কেন এটি অত্যন্ত মারাত্মক স্বাস্থ্যসমস্যা? হিট স্ট্রোক হলো অতিরিক্ত গরমের কারণে শরীরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেড়ে যাওয়া এবং তা নিয়ন্ত্রণে শরীরের নিজস্ব ব্যবস্থার (যেমন: ঘাম হওয়া) ব্যর্থ হওয়া। যখন শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তার উপরে উঠে যায়, তখন মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও কিডনিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সঠিক সময়ে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে হিট স্ট্রোকের কারণে মানুষ মারাও যেতে পারে—তাই এটি একটি অত্যন্ত মারাত্মক স্বাস্থ্যসমস্যা।
এই মারাত্মক ঝুঁকি এড়াতে গরমের দিনে যতটা সম্ভব ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন। ঘরে ফ্যান, কুলার বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করে বাতাস ঠান্ডা রাখুন। দুপুরের তীব্র গরমে জানালা ও পর্দা বন্ধ রাখলে সূর্যের তাপ ঘরে ঢুকতে পারে না, এতে ঘর তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা থাকে। এছাড়া মেঝেতে সামান্য পানি ছিটিয়ে দেওয়া বা ঘরে কিছু গাছপালা রাখলে ঘর প্রাকৃতিকভাবেই শীতল হয়। একই সাথে শরীরের আরামের জন্য হালকা, ঢিলেঢালা ও বাতাস চলাচল করে এমন সূতি কাপড় পরা এবং সারাদিন প্রচুর পানি পান করা দরকার।
শরীরের আরাম ও সুস্থতা বজায় রাখতে শীতল পরিবেশ তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি এবং প্রাকৃতিক—উভয় উপায়ই কাজে আসে। বাড়িতে বৈদ্যুতিক পদ্ধতির পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক বাতাস চলাচল নিশ্চিত করলে ঘাম কম হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি শুধু স্বস্তিই দেয় না, বরং ক্লান্তি ও হিট স্ট্রোকসহ নানা ধরনের গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমায়। তাই তীব্র গরমের দিনে শরীরকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে এসব সহজ পদ্ধতি মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন
তীব্র গরমের সময় সরাসরি রোদে বের হওয়া শরীরের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, যখন সূর্যের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়ে রোদের তেজ শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে, ফলে মাথা ঘোরা, অবসাদ বা হিট স্ট্রোকের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই চেষ্টা করুন এই সময়ে বাইরে না যেতে। তবে জরুরি কারণে বাইরে যেতে হলে ছাতা, টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করুন। সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয় এমন হালকা রঙের পোশাক পরা এবং ঘাম শোষণ করে এমন কাপড় পরিধান করাও শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
রোদে বাইরে থাকলে যতটা সম্ভব ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন—গাছের নিচে, ভবনের পাশে বা কোনো ছাউনির নিচে। কিছুক্ষণ পরপর ঠান্ডা জায়গায় গিয়ে বিশ্রাম নিন এবং পানি পান করুন, যাতে শরীর ডিহাইড্রেশনের শিকার না হয়। এটি শুধু আরামই দেবে না, বরং শরীরকে অতিরিক্ত তাপ থেকে সুরক্ষিত রাখবে। গরমে সচেতনভাবে রোদ এড়িয়ে চলাই নিজের ও পরিবারের জন্য সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সুরক্ষা।

সঠিক খাবার গ্রহণ করুন
গরমের দিনে শরীরের সুস্থতার জন্য সঠিক খাবার গ্রহণ করা অপরিহার্য। এই সময়ে সহজপাচ্য, হালকা ও তরল খাবার গ্রহণ করা উচিত, যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং শরীরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না। তাজা ফল যেমন তরমুজ, আম ও কমলা শরীরের পানির চাহিদা মেটায় এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়। শাকসবজি যেমন শসা, লাউ ও পালং শাক শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়ক।
শরবত ও ডাবের পানির মতো প্রাকৃতিক পানীয় শরীরের তরলের অভাব পূরণ করে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করা উচিত, কারণ এগুলো হজমে অসুবিধা সৃষ্টি করে এবং শরীরে তাপ উৎপন্ন করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে গরমকালে শরীর সুস্থ থাকে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে।
অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন
গরমের সময় শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়, তাই এসব দিনে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম শরীরের পক্ষে বেশ ক্ষতিকর হতে পারে। রোদে বা উচ্চ তাপমাত্রায় ভারী কাজ করলে শরীর দ্রুত ঘেমে ক্লান্ত হয়ে যায়, ফলে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন বা মাথা ঘোরা মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গরমে ভারী কাজ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই উত্তম। যারা ব্যায়াম করেন, তাদেরও এই সময় একটু সাবধান হতে হবে। গরমে দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা জিমে দীর্ঘ সময় ব্যয় করলে শরীরের পানি অনেকটা হারিয়ে যায়। তাই চেষ্টা করুন সকালে বা সন্ধ্যায়, যখন আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা থাকে, তখন ব্যায়াম করতে। এছাড়া হালকা পোশাক পরা এবং ব্যায়াম শেষে পর্যাপ্ত পানি বা ওআরএস খাওয়া খুব জরুরি।
অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়াতে কাজের মাঝেমধ্যেই ছোট ছোট বিরতি নেওয়া প্রয়োজন। একটানা কাজ করলে শরীরে চাপ পড়ে, মাথা ঝিমঝিম করে এবং কাজের গতি কমে যায়। তাই ঘরের ভিতরও যদি কাজ করেন, মাঝে একটু বিশ্রাম নেওয়া, মুখে পানি ছিটিয়ে নেওয়া বা ঠান্ডা স্থানে কয়েক মিনিট বসে থাকা শরীরের জন্য ভালো। বাইরের কাজের সময় সরাসরি রোদে না গিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে কিছুক্ষণ থেমে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। পরিশ্রমের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা একেবারেই ভুলে যাওয়া যাবে না, কারণ এটি শরীরে তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং গরমজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ করে। এই সামান্য সতর্কতা মেনে চললে গরমের দিনগুলোও কাটবে স্বস্তিতে ও সুস্থভাবে।
লবণ ও খনিজ সমৃদ্ধ পানীয় পান করুন
গরমের দিনে অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে লবণ ও খনিজ বেরিয়ে যাওয়ায় ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হতে পারে, যা দুর্বলতা ও ডিহাইড্রেশনের কারণ। তাই ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করা জরুরি। এই ধরনের পানীয় শরীরের লবণের অভাব পূরণ করে দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে, যা বিশেষত কায়িক পরিশ্রমকারীদের জন্য খুব দরকারি।
ওআরএস (ORS) একটি সহজলভ্য ও কার্যকর সমাধান, যা ঘরে তৈরি করা যায় বা কেনা যায়। এটি শরীরের প্রয়োজনীয় লবণ ও খনিজ সরবরাহ করে ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে। ডাবের পানি ও লেবুর শরবতের মতো প্রাকৃতিক পানীয়ও উপকারী, কারণ এগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে লবণ ও খনিজ থাকে যা শরীরকে সতেজ রাখে। গরমকালে শুধু পানি পান করাই যথেষ্ট নয়, শরীরের লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই ধরনের পানীয় গ্রহণ করা উচিত।
শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নিন
গরমের সময় শিশু ও বৃদ্ধরা তাপ সহ্য করার ক্ষমতা কম থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে এবং তাদের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। তাদের ঠান্ডা পরিবেশে রাখা উচিত এবং শিশুদের নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করানো প্রয়োজন, এমনকি তৃষ্ণা অনুভব না করলেও। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় সরবরাহ করা উচিত কারণ তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দুর্বল থাকে।
শিশু ও বৃদ্ধদের হালকা ও আরামদায়ক পোশাক, বিশেষত তুলার তৈরি পোশাক পরিধান করানো উচিত। তাদের খাদ্য তালিকায় সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার যেমন ফল, সবজি ও তরল খাবার যোগ করা উচিত। এই বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ নজর দিলে গরমকালে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং তারা অসুস্থতার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারে।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকুন
হিট স্ট্রোক একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা যা উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ঘটে এবং দ্রুত চিকিৎসা না করলে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথা ঘোরা, যা অতিরিক্ত গরমে রক্তচাপ কমে যাওয়ার কারণে হতে পারে। অতিরিক্ত ঘামও একটি লক্ষণ, যা ডিহাইড্রেশনের দিকে ইঙ্গিত করে। দুর্বলতা, বমি বমি ভাব এবং দ্রুত হৃদস্পন্দনও হিট স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ।
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে এর লক্ষণগুলো সম্পর্কে অবগত থাকা জরুরি। কোনো ব্যক্তি এই লক্ষণগুলো অনুভব করলে দ্রুত তাকে ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে যাওয়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া উচিত। হিট স্ট্রোক একটি গুরুতর অবস্থা হলেও সচেতনতার মাধ্যমে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই এই বিষয়ে জ্ঞান রাখা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মিনি স্ট্রোক এর প্রাথমিক চিকিৎসা
মিনি স্ট্রোক এর প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানা প্রতিটি মানুষের জন্যই খুব জরুরি। কারণ মিনি স্ট্রোক হলো বড় কোনো স্ট্রোকের আগের একটি সতর্কবার্তা। যদিও এর লক্ষণগুলো খুব দ্রুত সেরে যায়, তবুও এটাকে একেবারেই অবহেলা করা যাবে না।
রোগীর মধ্যে মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে তাকে শান্ত রাখতে হবে, একদম বিশ্রামে বসিয়ে বা শুইয়ে দিতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সাথে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
অনেকেই মিনি স্ট্রোককে সাধারণ কোনো অসুস্থতা মনে করে ভুল করেন। যেমনটি অনেকেই বোঝেন না “হিট স্ট্রোক কি এবং কেন এটি অত্যন্ত মারাত্মক স্বাস্থ্যসমস্যা?” এবং সাধারণ গরম ভেবে অবহেলা করেন—ঠিক তেমনই মিনি স্ট্রোককেও অবহেলা করা সমান বিপজ্জনক। তাই মিনি স্ট্রোক হোক কিংবা হিট স্ট্রোক, যেকোনো জরুরি শারীরিক সমস্যায় অবিলম্বে সঠিক মিনি স্ট্রোক এর প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

হিট স্ট্রোক নিয়ে সাধারণ ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর
হিট স্ট্রোক আসলে কী?
সহজ কথায়, প্রচণ্ড গরমে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা যখন আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না এবং শরীর খুব বেশি গরম হয়ে যায়, তাকেই হিট স্ট্রোক বলে।
হিট স্ট্রোক কেন হয়?
কড়া রোদে অনেকক্ষণ থাকলে, ঠিকমতো পানি না খেলে এবং অতিরিক্ত গরমে শরীরের রক্ত পানি হয়ে ঘাম হিসেবে বের হয়ে গেলে এটি হয়।
কাদের এই ভয়টা বেশি?
বাচ্চা, বয়স্ক মানুষ এবং যারা রোদে খাটাখাটনি করেন (যেমন রিকশাচালক বা মাঠে কাজ করা মানুষ)। এছাড়া যাদের অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতা আছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।
হিট স্ট্রোক হওয়ার আগে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
হঠাৎ প্রচণ্ড মাথা ঘোরা, শরীর ছেড়ে দেওয়া, বমি বমি লাগা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া—এসবই প্রধান লক্ষণ।
কারও এমন সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে কী করব?
প্রথমেই তাকে রোদ থেকে সরিয়ে বাতাসে বা ঠান্ডা জায়গায় আনুন। পরনের কাপড় ঢিলে করে দিন এবং ভেজা গামছা দিয়ে পুরো শরীর মুছে দিন।
গরমে সুস্থ থাকতে দিনে কতটুকু পানি খাওয়া উচিত?
দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার বা তার বেশি পানি পান করা উচিত। তৃষ্ণা না পেলেও কিছুক্ষণ পর পর পানি খাওয়া ভালো।
সাধারণ পানির পাশাপাশি আর কী খাওয়া যেতে পারে?
ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা খাবার স্যালাইন খুব উপকারী। এগুলো ঘামের সাথে বের হয়ে যাওয়া লবণের ঘাটতি মেরায়।
দুপুরের রোদে বাইরে বের হলে কী সাথে রাখব?
অবশ্যই একটা ছাতা, পানির বোতল এবং সুতির হালকা পোশাক পরে বের হবেন। সুতির কাপড় শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
বাচ্চাদের ও বয়স্কদের কীভাবে আগলে রাখব?
তাদের দুপুরবেলা রোদে যেতে দেবেন না। কিছুক্ষণ পর পর পানি বা শরবত খেতে দিন এবং তারা যেন ঠান্ডা জায়গায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
কখন দেরি না করে ডাক্তারের কাছে ছুটতে হবে?
রোগী যদি অজ্ঞান হয়ে যান, গায়ে তীব্র জ্বর চলে আসে বা উল্টোপাল্টা বকতে শুরু করেন, তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
পরামর্শ পেতে 01753-562762 (সকাল ৯.০০ থেকে রাত ১০.০০ টা) এই নম্বরে কল করুন এবং আপনার এপয়েন্টমেন্ট টি নিশ্চিত করুন।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃনিউরোফিট

