কি কি কারণে স্ট্রোক হয় তা জানা, এমন একটি জরুরি শারীরিক অবস্থা, যা মুহূর্তের মধ্যে একজন সুস্থ মানুষকেও গুরুতরভাবে অসুস্থ করে তুলতে পারে। এটি ঘটে মূলত তখন, যখন মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হয়। মস্তিষ্কের কোষগুলো ঠিকভাবে কাজ করার জন্য অক্সিজেন ও পুষ্টির প্রয়োজন হয়—আর সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যে কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এই কারণেই স্ট্রোককে অনেক সময় “মস্তিষ্কে আঘাত” বা Brain attack বলা হয়। কি কি কারণে স্ট্রোক হয় তা নিয়ে আমরা জানবো।
স্ট্রোক সাধারণত দুই ধরনের হয়। প্রথমটি ইস্কেমিক স্ট্রোক, যেখানে রক্তনালীগুলো ব্লক হয়ে রক্ত পৌঁছাতে পারে না। এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। দ্বিতীয়টি হেমোরেজিক স্ট্রোক, যেখানে মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালী ফেটে যায় এবং রক্তক্ষরণ ঘটে। উভয় ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত হয়, ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা হঠাৎ ব্যাহত হয়ে যায়।
স্ট্রোকের ঝুঁকি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও জীবনযাত্রাসংক্রান্ত বেশ কিছু কারণে বেড়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, এবং অলস জীবনধারা। এসব কারণ রক্তনালীর দেয়াল দুর্বল করে দেয়, ফলে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অ্যালকোহল সেবন, এবং পারিবারিক ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্ট্রোকের শিকার হলে রোগীর শরীরের এক পাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যেতে পারে, কথা জড়িয়ে যেতে পারে, মুখ বেঁকে যেতে পারে, বা চোখে হঠাৎ ঝাপসা দেখা শুরু হতে পারে। অনেক সময় মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো কিংবা তীব্র মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকরা দ্রুত চিহ্নিত করার জন্য FAST পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেন—Face (মুখ), Arm (হাত), Speech (কথা), এবং Time (সময়)। এই পদ্ধতির সাহায্যে বোঝা যায় রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত কিনা, এবং তখনই দ্রুত ব্যবস্থা নিলে জীবন বাঁচানো সম্ভব।
জীবনযাত্রায় নিয়ম মেনে চললে ও সচেতন থাকলে স্ট্রোক আটকানো অনেকটাই সহজ হয়। মূলত কি কি কারণে স্ট্রোক হয় তা জেনে নিয়ে ব্লাড প্রেসার ও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ও মদ খাওয়া বন্ধ করা, ভালো খাবার খাওয়া এবং রোজ কিছুটা হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করাই এর মূল সমাধান। প্রতিদিনের এই সহজ ও ভালো অভ্যাসগুলোই আপনাকে ভবিষ্যতে স্ট্রোকের বড় বিপদ থেকে বাঁচাবে।
সর্বোপরি, স্ট্রোক এমন একটি অবস্থা যা প্রতিরোধযোগ্য হলেও উপেক্ষা করলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই এর কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন হওয়াই হলো স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ জীবনের প্রথম ধাপ।
সর্বোপরি, স্ট্রোক এমন একটি অবস্থা যা প্রতিরোধযোগ্য হলেও উপেক্ষা করলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই এর কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন হওয়াই হলো স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ জীবনের প্রথম ধাপ।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শের জন্য সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে 01753-562762 নম্বরে কল করে আপনার এপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করুন।

স্ট্রোকের প্রকারভেদ
স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের একটি মারাত্মক সমস্যা, যা ব্রেইনে ঠিকমতো রক্ত চলাচল না পারলে ঘটে। আসল কথা হলো কি কি কারণে স্ট্রোক হয় তার ওপর ভিত্তি করেই এটিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়—ইস্কেমিক স্ট্রোক, হেমোরেজিক স্ট্রোক এবং ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (যাকে ছোট স্ট্রোক বা মিনি-স্ট্রোকও বলা হয়)। এই তিন ধরণের স্ট্রোকের কারণ, লক্ষণ ও ক্ষতির মাত্রা আলাদা হয়ে থাকে।
১. ইস্কেমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke)
ইস্কেমিক স্ট্রোক হলো সব স্ট্রোকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন ধরন। এটি ঘটে যখন মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী কোনো রক্তনালী ব্লক হয়ে যায়। এই ব্লকেজের ফলে মস্তিষ্কের কোষ পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় না, ফলে কোষমৃত্যু হতে পারে।
ইস্কেমিক স্ট্রোক সাধারণত দুটি প্রক্রিয়ায় ঘটে — থ্রম্বোসিস, অর্থাৎ রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা, এবং এম্বোলিজম, অর্থাৎ শরীরের অন্য স্থানে তৈরি হওয়া রক্ত জমাট অংশ ভেসে এসে মস্তিষ্কের রক্তনালী আটকে দেওয়া।
উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, ধূমপান, এবং অলস জীবনযাপন এই ধরনের স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চললে ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়।
২. হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke)
একদম সহজ ভাষায় নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
হেমোরেজিক স্ট্রোক তখন হয়, যখন মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালী বা রগ ফেটে গিয়ে ভেতরে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে। বুঝতে হবে কি কি কারণে স্ট্রোক হয়—তার মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, যার চাপে এই রক্তনালী ফেটে যেতে পারে। এতে শুধু রক্তক্ষরণই হয় না, জমে থাকা রক্ত মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং সেখানকার কোষগুলোকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়।
এই ধরনের স্ট্রোক তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক স্ট্রোকের ধরন, কারণ এতে মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার সম্ভাবনা অনেক বেশি। উচ্চ রক্তচাপ হলো হেমোরেজিক স্ট্রোকের প্রধান কারণ। এছাড়াও মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক রক্তনালীর গঠন (যেমন আর্টেরিওভেনাস মালফর্মেশন), মাথায় আঘাত, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন এবং ধূমপানও এই ধরনের স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
যারা দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখেন না বা নিয়মিত পরীক্ষা করান না, তাদের ক্ষেত্রে হেমোরেজিক স্ট্রোকের আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা ও স্বাস্থ্যসচেতন থাকা অপরিহার্য।
৩. ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (Transient Ischemic Attack – TIA)
ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA) বা ‘মিনি স্ট্রোক’ হলো ক্ষণস্থায়ী একটি সমস্যা। মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে এটি ঘটে। সাধারণ স্ট্রোকের মতো মিনি স্ট্রোক হওয়ার পেছনেও মূল কিছু শারীরিক কারণ থাকে। সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা কিংবা অতিরিক্ত ধূমপানের মতো অভ্যাসের জন্যই মূল কি কি কারণে স্ট্রোক হয় তা দেখা যায়।
মিনি স্ট্রোকের কারণে অল্প সময়ের জন্য শরীরের একপাশ অবশ হওয়া, হাত-পা দুর্বল লাগা কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে যান এবং স্থায়ী কোনো ক্ষতি হয় না। তবে এটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, কারণ মিনি স্ট্রোক হলো ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোক হওয়ার একটি পূর্বলক্ষণ।
তবে TIA কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি প্রায়শই ভবিষ্যতের বড় ধরনের ইস্কেমিক স্ট্রোকের পূর্বাভাস হিসেবে কাজ করে। তাই কেউ যদি একবারও TIA বা মিনি স্ট্রোকের উপসর্গে ভোগেন, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্ট্রোকের প্রকারভেদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। ইস্কেমিক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক দুটোই জীবনহানিকর হতে পারে, আর ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক ভবিষ্যতের বিপদের ইঙ্গিত দেয়। সচেতনতা, সুস্থ জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই তিনটিই স্ট্রোক প্রতিরোধের মূলমন্ত্র।
যে কোনো পরামর্শ বা এপয়েন্টমেন্টের জন্য সকাল ৯টা–রাত ৯টার মধ্যে 01753-562762 নম্বরে যোগাযোগ করুন।

কি কি কারণে স্ট্রোক হয়
স্ট্রোকের কারণ একাধিক হতে পারে। তবে বেশিরভাগ সময়েই এটি এমন কিছু পুরোনো রোগ বা খারাপ অভ্যাসের ফলে হয়, যা ধীরে ধীরে আমাদের শরীরের রক্তনালী ও হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করে। আপনি যদি সহজ ভাষায় বুঝতে চান কি কি কারণে স্ট্রোক হয়, তবে নিচে প্রধান কারণগুলো তুলে ধরা হলো—
১. উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension)
উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের প্রধান কারণ। এটি মস্তিষ্কের রক্তনালীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা সময়ের সাথে সাথে রক্তনালীর দেয়াল দুর্বল করে দেয়। এই দুর্বল রক্তনালী ফেটে গেলে হেমোরেজিক স্ট্রোক হতে পারে।
এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ইস্কেমিক স্ট্রোক ঘটাতেও ভূমিকা রাখে, কারণ রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে। নিয়মিত রক্তচাপ মাপা, কম লবণযুক্ত খাদ্য খাওয়া, ওষুধ নিয়মিত সেবন এবং মানসিক চাপ কমানো উচ্চ রক্তচাপজনিত স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।
২. ডায়াবেটিস (Diabetes Mellitus)
ডায়াবেটিস থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায় এবং বুঝতে হবে কি কি কারণে স্ট্রোক হয়। উচ্চ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা রক্তনালীর গঠন নষ্ট করে দেয় এবং সেগুলোর অভ্যন্তরীণ দেয়ালকে দুর্বল করে। ফলে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে, এবং মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না—ফলে স্ট্রোক হতে পারে।
ডায়াবেটিসের কারণে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও বাড়ে, যা ইস্কেমিক স্ট্রোকের বড় কারণ। নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম ও শরীরচর্চা ডায়াবেটিস-জনিত স্ট্রোক প্রতিরোধে কার্যকর।
৩. উচ্চ কোলেস্টেরল (High Cholesterol)
রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ কারণ। কোলেস্টেরল রক্তনালীর দেয়ালে জমে প্লাক তৈরি করে, ফলে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। এই প্লাক ভেঙে গেলে রক্ত জমাট বাঁধে এবং মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, যাকে ইস্কেমিক স্ট্রোক বলা হয়।
এই ঝুঁকি কমাতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ভাজাপোড়া খাবার কমিয়ে দিন, চর্বিহীন প্রোটিন খান, শাকসবজি ও ফল বেশি গ্রহণ করুন। নিয়মিত কোলেস্টেরল পরীক্ষা রক্তনালীর স্বাস্থ্যের অবস্থা বোঝাতে সাহায্য করে।
৪. ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন
ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন—দুটিই স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ধূমপানের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রক্তনালী সংকুচিত করে, রক্তচাপ বাড়ায় এবং রক্তে জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি করে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন লিভারের ক্ষতি করে, রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদয়ের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে।
এই অভ্যাসগুলো একসঙ্গে থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই ধূমপান ও মদ্যপান থেকে যত দ্রুত বিরত থাকা যায়, ততই ভালো—এটি স্ট্রোক প্রতিরোধে কার্যকর এবং সামগ্রিকভাবে হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
৫. অতিরিক্ত ওজন ও অনিয়মিত জীবনযাপন
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা স্ট্রোকের অন্যতম বড় কারণ। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে প্রেশার ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে, আর রক্তে কোলেস্টেরলও বেড়ে যায়। তাই কি কি কারণে স্ট্রোক হয়, তার মধ্যে অতিরিক্ত ওজন অন্যতম।
সারাদিন এক জায়গায় বসে থাকা, সময়মতো না ঘুমানো আর অলস জীবন কাটানো এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি বসে কাজ করেন এবং শরীরচর্চা করেন না, তাঁদের স্ট্রোকের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে প্রায় ৭ গুণ বেশি।
তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্ট্রোক থেকে বাঁচতে প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুব দরকার।
৬. হৃদরোগ ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (Atrial Fibrillation)
হৃদরোগ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ হৃদস্পন্দন (AFib) স্ট্রোকের অন্যতম বড় কারণ এবং বুঝতে হবে কি কি কারণে স্ট্রোক হয়। AFib অবস্থায় হৃদয়ের ভিতরে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে, যা পরে মস্তিষ্কের রক্তনালীতে পৌঁছে ব্লক করে দেয়। এর ফলে ইস্কেমিক স্ট্রোক দেখা দেয়।
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ একসঙ্গে থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই হৃদস্পন্দন অনিয়ম লক্ষ্য করলে বা AFib ধরা পড়লে নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ অপরিহার্য। সক্রিয় জীবনযাপন, লবণ ও চর্বি কম খাওয়া, এবং চিকিৎসকের পরামর্শানুযায়ী ওষুধ সেবন হৃদরোগজনিত স্ট্রোক প্রতিরোধে কার্যকর৷
৭. বংশগত কারণ (Genetic Factors)
বংশগত কারণও স্ট্রোকের একটি প্রভাবশালী উপাদান। পরিবারের কারো স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে নিজের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এটি সাধারণত জিনগত প্রবণতা এবং পারিবারিক জীবনযাত্রার মিলের কারণে ঘটে।
যদিও জিনগত কারণ পরিবর্তন করা যায় না, কিন্তু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক ওজন বজায় রাখা এবং রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে বংশগত ঝুঁকিও অনেকাংশে কমানো সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরামর্শ দরকার? সহজেই 01753562762নম্বরে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে কল দিন এবং এপয়েন্টমেন্ট ঠিক করুন।
কিভাবে বুঝবেন যে কেউ স্ট্রোক করেছে?
স্ট্রোক এমন একটি হঠাৎ ঘটা শারীরিক অবস্থা যা দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা না করলে স্থায়ী পক্ষাঘাত বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই কিভাবে বুঝবেন যে কেউ স্ট্রোক করেছে—এটা জানা অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোকের উপসর্গ সাধারণত হঠাৎ করেই দেখা দেয় এবং কয়েক মিনিটেই পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। নিচে স্ট্রোকের লক্ষণ ও শনাক্তের উপায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশ হওয়া
একদম সহজ ভাষায় নিচে উপস্থাপন করা হলো:
স্ট্রোক হলে হঠাৎ শরীরের একপাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যায়—যেমন মুখ বেঁকে যাওয়া, কিংবা একপাশের হাত ও পা কাজ না করা। আক্রান্ত মানুষকে দুই হাত তুলতে বললে দেখা যাবে, একপাশের হাত হাত তুলতে পারছে না বা পড়ে যাচ্ছে।
ঠিক কি কি কারণে স্ট্রোক হয় তাও জেনে রাখা দরকার। রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার বেশি থাকা, ধূমপান করা, রক্তে কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস থাকা এবং অনিয়ম করে জীবনযাপন করার কারণে ব্রেইনে বা মস্তিষ্কে ঠিকমতো রক্ত পৌঁছাতে পারে না, যা পরবর্তীতে স্ট্রোকের কারণ হয়।
২. কথা বলার সমস্যা বা অস্পষ্ট উচ্চারণ
স্ট্রোক হলে আক্রান্ত ব্যক্তির কথা জড়িয়ে যেতে পারে কিংবা সে সঠিকভাবে শব্দ উচ্চারণ করতে পারে না। অনেক সময় অন্যের কথা বুঝতেও কষ্ট হয়। কেউ হয়তো হঠাৎ করে পরিষ্কারভাবে কথা বলা বন্ধ করে দিল বা শব্দ বিকৃতভাবে উচ্চারণ করছে—এটিও স্ট্রোকের একটি বড় লক্ষণ।
৩. চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস
স্ট্রোকের প্রভাবে হঠাৎ করে এক বা উভয় চোখে ঝাপসা দেখা, দৃষ্টি ঝলমল করা, কিংবা সাময়িক অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে। এই লক্ষণকে অনেকেই সাধারণ চোখের সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন, কিন্তু এটি আসলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
৪. ভারসাম্য হারানো ও মাথা ঘোরা
স্ট্রোকের আরেকটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হলো ভারসাম্য হারানো। আক্রান্ত ব্যক্তির হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটতে গিয়ে টলমল করা, সমন্বয় হারানো বা বমি বমি ভাব হতে পারে। কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে সেটি সেরিবেল্লার স্ট্রোকের সম্ভাবনা নির্দেশ করতে পারে।
৫. তীব্র মাথাব্যথা
কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে এবং এর সঙ্গে বমি, ঝাপসা দৃষ্টি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে এটি হেমোরেজিক স্ট্রোকের ইঙ্গিত হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসা ছাড়া এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত নয়।
FAST টেস্ট পদ্ধতি: সহজে স্ট্রোক তাৎক্ষণিক উপায়
স্ট্রোক দ্রুত চিহ্নিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো FAST টেস্ট। এটি একটি সহজ মেমোনিক পদ্ধতি, যা চারটি ধাপে স্ট্রোক শনাক্তের উপসর্গ বুঝতে সাহায্য করে:
F (Face Drooping) – মুখ ঝুলে পড়া
আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসতে বলুন। যদি মুখের একটি পাশ নিচে ঝুলে পড়ে বা হাসি অসমান হয়, তবে এটি স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ।
A (Arm Weakness) – হাত দুর্বল হওয়া
দুই হাত তুলতে বলুন। যদি একটি হাত নিচে নেমে যায় বা তুলতে না পারে, বুঝবেন শরীরের এক পাশে দুর্বলতা আছে – যা স্ট্রোকের ইঙ্গিত বহন করে।
S (Speech Difficulty) – কথা বলার সমস্যা
একটি সহজ বাক্য বলতে বলুন, যেমন “আমার নাম বলুন”। যদি কথা অস্পষ্ট হয় বা বাক্য গঠন করতে না পারে, তবে এটি স্পষ্টভাবে স্ট্রোকের উপসর্গ।
T (Time to Call Emergency) – জরুরি চিকিৎসার সময়
উপরের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই এক মুহূর্ত দেরি না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। লক্ষণ জানার সাথে সাথে কি কি কারণে স্ট্রোক হয় তাও বোঝা দরকার, কারণ অসচেতনতা ও ভুল জীবনযাত্রাই এর মূল কারণ।
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত মূল্যবান; যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, মস্তিষ্কের ক্ষতি তত কম হবে এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে। কথা বলার অসুবিধা, চোখে ঝাপসা দেখা বা শরীরের ভারসাম্য হারানো—এসবই বিপদের ইঙ্গিত। তাই FAST টেস্ট মনে রাখুন এবং একটু সন্দেহ হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপই স্ট্রোক মোকাবিলার সেরা উপায়।
মস্তিষ্ক ও স্নায়ুজনিত পরামর্শের জন্য আজই কল করুন 01753-562762, সময়: সকাল ৯টা – রাত ৯টা।

স্ট্রোক হলে তাৎক্ষণিক করণীয়
স্ট্রোক একটি জরুরি শারীরিক সমস্যা, যেখানে প্রতিটি মিনিট খুব গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত মানুষের জীবন বাঁচাতে আর মস্তিষ্কের ক্ষতি কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কি কি কারণে স্ট্রোক হয় তা জানার পাশাপাশি লক্ষণ দেখা মাত্রই চিকিৎসা শুরু করা উচিত। নিচে বিস্তারিত জানানো হলো, স্ট্রোক হলে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন::
১. জরুরি সেবা নিন (Call Emergency Service Immediately)
স্ট্রোকের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে ফোন করুন বা নিকটস্থ বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময়ই জীবন—প্রতিটি মিনিটে প্রায় ১৯ লক্ষ মস্তিষ্ক কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, তত বেশি মস্তিষ্কের ক্ষতি প্রতিরোধ সম্ভব।
২. আক্রান্ত ব্যক্তিকে আরামদায়ক অবস্থানে শুইয়ে দিন
রোগীকে শান্ত পরিবেশে শুইয়ে দিন এবং মাথা খানিকটা উঁচু রাখুন, প্রায় ৩০ ডিগ্রি কোণে। এতে রক্তপ্রবাহ স্থিতিশীল থাকে এবং মস্তিষ্কে চাপ কিছুটা কমে আসে। রোগীকে যেন হঠাৎ করে উঠতে বা নড়াচড়া করতে না বলা হয়; এতে মাথায় রক্তচাপ বেড়ে যাবার আশঙ্কা থাকে।
যদি বমি আসে বা মুখে লালা জমে, তখন ব্যক্তিকে একদিকে কাত করে দিন, যাতে শ্বাসনালিতে তরল পদার্থ ঢুকে না যায়।
৩. খাওয়া বা পানীয় দেবেন না
স্ট্রোকের কারণে অনেক সময় গিলতে সমস্যা হয় (medical term: dysphagia)। ফলে খাবার বা পানি মুখে দিলে তা শ্বাসনালীতে ঢুকে শ্বাসরোধ বা নিউমোনিয়া ঘটাতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো খাবার, পানি, ওষুধ বা অন্য কিছু মুখে দেবেন না।
৪. লক্ষণ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন
যদি দেখেন রোগীর মুখ একপাশে বেঁকে গেছে, হাত-পা অবশ, বা কথা জড়িয়ে গেছে—এগুলো FAST লক্ষণ। সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়গুলো নোট করুন এবং হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসককে জানান।
অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেবেন না বা রক্তচাপ হঠাৎ কমানোর চেষ্টা করবেন না। ভুল পদক্ষেপ নেওয়া রোগীর অবস্থাকে আরও বিপজ্জনক করতে পারে।
৫. শান্ত থাকুন এবং মনোযোগ দিন
স্ট্রোকের শিকার ব্যক্তির আশেপাশের সবাইকে শান্ত থাকতে হবে। আতঙ্ক বা চিৎকার আরও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। জরুরি সেবা আসা পর্যন্ত তার শ্বাস, স্পন্দন ও সচেতনতা লক্ষ্য করুন। যদি তিনি অচেতন হয়ে যান এবং শ্বাস বন্ধ থাকে, তখন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি সিপিআর (CPR) শুরু করতে পারেন।
সুস্থ জীবনের পথে এক ধাপ এগিয়ে নিন—সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে 01753-562762 নম্বরে ফোন করে এপয়েন্টমেন্ট নিন।

স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়
স্ট্রোক প্রতিরোধে সচেতন হওয়া, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা এবং সুস্থ থাকা খুবই জরুরি। অনেকেই ভাবেন স্ট্রোক হঠাৎ করেই হয়ে যায়, কিন্তু আসলে দীর্ঘদিনের খারাপ অভ্যাস ও শারীরিক সমস্যার কারণেই এটি ঘটে। তাই কি কি কারণে স্ট্রোক হয় তা সঠিকভাবে জানতে পারলে এই রোগ এড়ানো অনেক সহজ হয়ে যায়।
নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, কীভাবে আপনি স্ট্রোকের কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখে এর ঝুঁকি কমাবেন এবং সুস্থ থাকবেন—
১. নিয়মিত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
কি কি কারণে স্ট্রোক হয় এবং উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকির কারণ। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সিস্টোলিক রক্তচাপ প্রতি ১০ মিমি পারদ স্তর (mmHg) কমালে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ৪০% পর্যন্ত হ্রাস করা যায়।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে—
- লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান
- ফলমূল ও শাকসবজি বেশি খান
- মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন
- নিয়মিত চলাফেরা করুন
২. ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন
ধূমপান আর অতিরিক্ত মদ খাওয়া কিন্তু স্ট্রোকের পেছনে বড় অপরাধী। কি কি কারণে স্ট্রোক হয় সেদিকে তাকালে বোঝা যায়—সিগারেটের বিষাক্ত জিনিস রক্তের রগগুলোকে সুতার মতো চিকন করে ফেলে, ফলে ব্রেনে ঠিকঠাক অক্সিজেন পৌঁছায় না।
আর বেশি মদ খেলে ব্লাড প্রেশার একলাফে বেড়ে যায় এবং হার্টের ধুকপুকানি এলোমেলো হয়ে যায়, যা ব্রেন অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
তাই আজই বিড়ি-সিগারেট ও মদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিন। এটি শুধু স্ট্রোকই আটকাবে না, আপনার হার্ট অ্যাটাক আর ক্যানসারের মতো বিপদ থেকেও বাঁচাবে।
৩. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন
খাদ্যাভ্যাস সরাসরি স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই খাবারে সচেতন পরিবর্তন জরুরি—
- কম চর্বি ও উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার বেছে নিন
- বেশি করে ফল, শাকসবজি ও সম্পূর্ণ শস্য খান
- ওমেগা–৩ ফ্যাটি এসিডযুক্ত মাছ (যেমন ইলিশ, সার্ডিন, টুনা) খাদ্যতালিকায় রাখুন
- অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্সফ্যাট সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন
এই অভ্যাসগুলো রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা স্ট্রোক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৪. প্রতিদিন ব্যায়াম করুন
নিয়মিত ব্যায়াম শরীরচর্চা শুধু ফিটনেসে নয়, স্ট্রোক প্রতিরোধেও সমান কার্যকর। ব্যায়াম রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করা উচিত। এটি হতে পারে—
– দ্রুত হাঁটা
- সাইকেল চালানো
- হালকা দৌড়
- যোগব্যায়াম বা এরোবিক্স
শরীরচর্চা শরীরে ইনসুলিন ব্যালান্স রাখে এবং রক্তচলাচল উন্নত করে, যা স্ট্রোকে বিরূপ প্রভাব কমায়।
৫. ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করুন
ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও চর্বি জমে রক্তনালীতে ক্ষতি করে, যা ইস্কেমিক স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
- নিয়মিত রক্তে শর্করা ও লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করুন
- প্রয়োজনে চিকিৎসকের নির্দেশে ওষুধ গ্রহণ করুন
- চর্বিযুক্ত খাবার কমিয়ে দিন
সুষম খাদ্য ও শারীরিক পরিশ্রম বজায় রাখলে এই ঝুঁকি কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব।
৬. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
অতিরিক্ত ওজন স্ট্রোকসহ অন্যান্য হৃদরোগের মূল কারণ। স্থূলতা রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস বাড়ায়, রক্তনালীতে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হরমোনের ভারসাম্য রাখতে সহায়তা করে, যা স্ট্রোক প্রতিরোধে পরোক্ষভাবে কার্যকর।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
স্ট্রোকের পর পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব, তবে এটি নির্ভর করে স্ট্রোকের ধরন ?
তীব্রতা, এবং চিকিৎসা পাওয়ার সময়ের ওপর। যদি দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া হয়, তাহলে অনেক রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। চিকিৎসার মধ্যে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক করা, পুনর্বাসন থেরাপি, এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, যা পুনর্বাসনের মাধ্যমে উন্নত করা যায়।
২. কি ধরনের খাবার স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়ক?
স্ট্রোক এড়াতে ঠিকমতো খাবার খাওয়া খুব দরকার। কি কি কারণে স্ট্রোক হয় তার অন্যতম বড় কারণ হলো ভুল খাদ্যাভ্যাস ও হাই প্রেশার। তাই নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল ও মাছ খাওয়া উচিত। খাবারে লবণ ও চর্বি কম খেলে প্রেশার বশে থাকে এবং হার্ট ও মস্তিষ্ক—দুটোই ভালো থাকে।
স্ট্রোকের চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?
স্ট্রোকের চিকিৎসা মূলত এর কারণ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। ইস্কেমিক স্ট্রোকে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক করতে থ্রম্বোলাইটিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা জমাট বাঁধা রক্ত সরিয়ে দেয়। হেমোরেজিক স্ট্রোকে রক্তপাত বন্ধ করতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া পুনর্বাসন থেরাপি, যেমন ফিজিওথেরাপি এবং স্পিচ থেরাপি, রোগীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
তরুণদের কি স্ট্রোক হতে পারে?
হ্যাঁ, তরুণদেরও স্ট্রোক হতে পারে। যদিও এটি তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, যেমন ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন, এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া জেনেটিক কারণ বা জন্মগত হৃদরোগ তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্ট্রোক প্রতিরোধের সহজ উপায় কী?
স্ট্রোক আটকাতে প্রতিদিন একটু ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি খেয়াল করি কি কি কারণে স্ট্রোক হয়, তবে দেখব অলসভাবে দিন কাটানো আর শরীরকে না নাড়ানোই কিন্তু এর বড় কারণ। তাই ভালো খাবার খাওয়া, ব্লাড প্রেশার ও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিড়ি-সিগারেট বা মদের অভ্যাস ছেড়ে দেওয়াটা খুব জরুরি। সেই সাথে অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা বা স্ট্রেস কম নেওয়া আর মাঝে মাঝে ডাক্তার দেখিয়ে শরীর চেকআপ করিয়ে নিলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই এড়িয়ে চলা সম্ভব।
পরামর্শ পেতে 01753-562762 (সকাল ৯.০০ থেকে রাত ১০.০০ টা) এই নম্বরে কল করুন এবং আপনার এপয়েন্টমেন্ট টি নিশ্চিত করুন।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃনিউরোফিট


1 thought on “কি কি কারণে স্ট্রোক হয়: জানুন মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের ব্যাঘাতের প্রধান কারণ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধের উপায়”