মানুষ অল্প বয়সে স্ট্রোক কেন করে

কম বয়সেও স্ট্রোক: কেন ঘটে এবং প্রতিরোধের উপায় কি?

স্ট্রোক একসময় বয়স্কদের একটি সমস্যা হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি কম বয়সীদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে গবেষণায় দেখা গেছে যে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে তরুণদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে, যেখানে দ্রুত নগরায়ণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন অল্প বয়সে স্ট্রোক এর ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে খারাপ খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অপর্যাপ্ত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং অত্যধিক মদ্যপান। এছাড়াও, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা স্ট্রোকের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এই ঝুঁকিগুলো পরিবর্তন করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, ফল, সবজি, সম্পূর্ণ শস্য এবং স্বাস্থ্যকর আমিষ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এবং এর প্রতিরোধ করার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অবলম্বন করে, ধূমপান ছেড়ে দিয়ে, নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ করে এবং অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো যায়। এছাড়াও, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রোক প্রতিরোধে সরকার ও স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।

স্ট্রোক কী এবং কেন ঘটে?

স্ট্রোক হল একটি মস্তিষ্কের অবস্থা যা মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে বাধা সৃষ্টির ফলে ঘটে। এটি প্রধানত দুই ধরনের হতে পারে: ইস্কেমিক স্ট্রোক এবং হেমোরেজিক স্ট্রোক। ইস্কেমিক স্ট্রোক ঘটে যখন কোনো রক্তনালী ব্লক হয়ে যায়, যার ফলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। অন্যদিকে, হেমোরেজিক স্ট্রোক ঘটে যখন মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালী ফেটে যায় এবং রক্তপাত হয়।

ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণ ও প্রভাব

ইস্কেমিক স্ট্রোক হল স্ট্রোকের সবচেয়ে সাধারণ ধরন। এটি ঘটে যখন মস্তিষ্কের রক্তনালীতে থ্রম্বোসিস বা এথেরোস্ক্লেরোসিসের কারণে রক্ত প্রবাহ ব্লক হয়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের কোনো অংশ অক্সিজেন ও পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে না, যা মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করে। ইস্কেমিক স্ট্রোকের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মুখ বা পা ঝিমঝিম করা, কথা বলতে অসুবিধা এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাস। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

হেমোরেজিক স্ট্রোকের কারণ ও প্রভাব

হেমোরেজিক স্ট্রোক ঘটে যখন মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালী ফেটে যায় এবং রক্তপাত হয়। এটি প্রায়শই উচ্চ রক্তচাপের কারণে ঘটে। হেমোরেজিক স্ট্রোকের ফলে মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মস্তিষ্কের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ধরনের স্ট্রোকের লক্ষণগুলো হল হঠাৎ করে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, মাথা ঘুরে যাওয়া এবং শরীরের কোনো অংশে দুর্বলতা। হেমোরেজিক স্ট্রোকের চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

কম বয়সে স্ট্রোকের কারণসমূহ

কম বয়সে স্ট্রোকের কারণসমূহ

একাধিক গবেষণা এবং সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের প্রধান কারণগুলো হলো:

উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের প্রধান কারণগুলোর একটি। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ ধমনীতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। উচ্চ রক্তচাপের ফলে ধমনীর দেয়াল পাতলা হয়ে যায় এবং এটি ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা হেমোরেজিক স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, উচ্চ রক্তচাপ ধমনীতে প্লেক জমার সম্ভাবনাও বাড়ায়, যা ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অবলম্বন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার কমিয়ে দিলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য পাওয়া যায়। নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা উচিত।

উচ্চ রক্তচাপের স্বাস্থ্য প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর। এটি শুধু স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং হৃৎপিণ্ডের ব্যর্থতা, বৃক্কের ব্যর্থতা এবং অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে রক্তচাপের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অবলম্বন করে এবং ঝুঁকি কারণগুলো পরিবর্তন করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ডায়াবেটিস

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে এবং অল্প বয়সে স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়ায়। ডায়াবেটিসের ফলে রক্তে অতিরিক্ত শর্করা থাকে, যা রক্তনালীর দেয়ালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি রক্তনালীতে প্লেক জমার সম্ভাবনা বাড়ায়, যা ইস্কেমিক স্ট্রোকের একটি প্রধান কারণ। এছাড়াও, ডায়াবেটিস রক্তনালীকে পাতলা করে দিতে পারে, যা হেমোরেজিক স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অবলম্বন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শর্করা ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার কমিয়ে দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়াও, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করে ঔষধ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিস এবং স্ট্রোকের সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অবলম্বন করে এবং ঝুঁকি কারণগুলো পরিবর্তন করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সমাজে ডায়াবেটিস এবং স্ট্রোকের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ফলে কম বয়সে স্ট্রোক

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। এই খাদ্যাভ্যাস রক্তনালীতে প্লেক জমার সম্ভাবনা বাড়ায়, যা ইস্কেমিক স্ট্রোকের একটি প্রধান কারণ। এছাড়াও, উচ্চ রক্তচাপ ধমনীতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা হেমোরেজিক স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে, কম বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অবলম্বন করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ফল, সবজি, সম্পূর্ণ শস্য এবং স্বাস্থ্যকর আমিষ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। এই খাবারগুলো রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তনালীকে স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও, লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার কমিয়ে দিলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করে স্বাস্থ্যকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সাথে সম্পর্কিত। এছাড়াও, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের প্রচার করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ধূমপান ও মদ্যপান

ধূমপানের ফলে রক্তনালী সংকুচিত হয়, যা স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। ধূমপানের সময় তামাকের ধোঁয়ায় প্রায় ৭,০০০ বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যেগুলো শরীরে প্রবেশ করে কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ধূমপান রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমায়, উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায় এবং অস্বাভাবিক হার্টবিটের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও, ধূমপান রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা পরিবর্তন করে, যা রক্তনালীতে প্লেক জমার সম্ভাবনা বাড়ায়। ফলে, ধূমপানকারীরা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে বেশি থাকে।

মদ্যপানও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে অতিরিক্ত মদ্যপান উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিয়মিত হার্টবিটের কারণ হতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ভারী মদ্যপানকারীরা মস্তিষ্কের রক্তপাতজনিত স্ট্রোকের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। এছাড়াও, অতিরিক্ত মদ্যপান অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার সাথেও সম্পর্কিত, যেমন যকৃতের সমস্যা এবং অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি।

স্ট্রেস ও অনিদ্রার ফলে কম বয়সে স্ট্রোক হয়

স্ট্রেস ও অনিদ্রা

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্ট্রেস শরীরে সিম্পাথেটিক ক্রিয়াকলাপকে উদ্দীপিত করে, যার ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং রক্তনালীর প্রতিক্রিয়া পরিবর্তন হয়। এটি মস্তিষ্কের এন্ডোথেলিয়ামকেও প্রভাবিত করে, যা রক্তনালীতে প্লেক জমার সম্ভাবনা বাড়ায়। এছাড়াও, স্ট্রেস হৃৎস্পন্দনের অনিয়মিততার কারণ হতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা অনিদ্রাও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অনিদ্রা রক্তচাপ বৃদ্ধি করে, রক্তে প্রদাহজনক সাইটোকাইনের মাত্রা বাড়ায় এবং মেটাবলিক ফাংশনকে প্রভাবিত করে। এছাড়াও, অনিদ্রা হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে অনিদ্রার সাথে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্রেস এবং অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, নিয়মিত ব্যায়াম এবং যোগব্যায়াম করা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অবলম্বন করা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিদ্রার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের জন্য মেডিটেশন এবং আত্ম-যত্নের অনুশীলন করা সহায়ক হতে পারে। সমাজে স্ট্রেস এবং অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন বৃদ্ধি ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা

অতিরিক্ত ওজন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা রক্তচলাচল ব্যাহত করতে পারে। অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য মেটাবলিক সমস্যার সাথে সম্পর্কিত, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়, যা রক্তনালীতে প্লেক জমার সম্ভাবনা বাড়ায়। নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অবলম্বন করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ধূমপান, মদ্যপান এবং অতিরিক্ত ওজন থেকে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, ধূমপান ছেড়ে দেওয়া এবং মদ্যপান কমিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অবলম্বন করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এছাড়াও, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা উচিত। সমাজে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রচার করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

কম বয়সে স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়

কম বয়সে স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়

স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব যদি আমরা কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলি।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা স্ট্রোক প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এই ঝুঁকি কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যাগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা যায়, যা সঠিক চিকিৎসা গ্রহণে সাহায্য করে।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ ধমনীতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়ায়। উচ্চ কোলেস্টেরল রক্তনালীতে প্লেক জমার সম্ভাবনা বাড়ায়, যা ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। এই ঝুঁকি কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুস্থ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন

সুস্থ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা স্ট্রোক প্রতিরোধের একটি মূল উপায়। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা এবং অতিরিক্ত লবণ ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলা উচিত। ফল, সবজি, সম্পূর্ণ শস্য এবং স্বাস্থ্যকর আমিষ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। এই খাবারগুলো রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তনালীকে স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও, লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার কমিয়ে দিলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন স্ট্রোক প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও, ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা উচিত। স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অবলম্বন করে এবং ঝুঁকি কারণগুলো পরিবর্তন করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সমাজে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রচার করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন

ধূমপান ও মদ্যপান স্ট্রোকের অন্যতম বড় কারণ। ধূমপান রক্তনালী সংকুচিত করে এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমায়, যা মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করতে পারে। মদ্যপানও উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিয়মিত হার্টবিটের কারণ হতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই, ধূমপান ছেড়ে দেওয়া এবং মদ্যপান কমিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ অবলম্বন করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমান

পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানো স্ট্রোক প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত, কারণ অনিদ্রা রক্তচাপ বৃদ্ধি করে এবং রক্তে প্রদাহজনক সাইটোকাইনের মাত্রা বাড়ায়। মানসিক চাপ কমানোর জন্য মেডিটেশন বা ইয়োগার মতো কার্যক্রম গ্রহণ করা সহায়ক হতে পারে। এই অনুশীলনগুলো মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অবলম্বন করে এবং ঝুঁকি কারণগুলো পরিবর্তন করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

সংক্ষেপ বার্তা

বর্তমানে অল্প বয়সে স্ট্রোকের হার বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একটি প্রধান কারণ। অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও, ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তনালীকে সংকুচিত করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ওজন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য মেটাবলিক সমস্যার সাথে সম্পর্কিত, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়, যা রক্তনালীতে প্লেক জমার সম্ভাবনা বাড়ায়।

তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

মানসিক চাপ শরীরে সিম্পাথেটিক ক্রিয়াকলাপকে উদ্দীপিত করে, যার ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। অনিদ্রা রক্তে প্রদাহজনক সাইটোকাইনের মাত্রা বাড়ায় এবং হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। তাই, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অবলম্বন করে এবং ঝুঁকি কারণগুলো পরিবর্তন করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

 

লিখেছেন,

ডাঃ জাকির হোসেন
ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট

বিপিটি(সাইক-ঢাবি) ডিপ-ইন অর্থোপেডিক মেডিসিন সিরিয়াক্স(বেলজিয়াম)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *